শনিবার ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ২; ধসে পড়েছে ভবন, জারি হয়েছিল সুনামি সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক   |   শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   3 বার পঠিত

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ২; ধসে পড়েছে ভবন, জারি হয়েছিল সুনামি সতর্কতা

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে শনিবার ভোরে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত দুইজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর অল্প সময়ের জন্য সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা ভূমিকম্পটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ভবন ধসে পড়তে এবং আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

নাগেওকেও এলাকার এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি বাজারে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘কম্পন ছিল খুব শক্তিশালী।’ সৌভাগ্যক্রমে তারা তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। আতঙ্কিত মানুষজন নিরাপদে যেতে ছোটাছুটি করছিলেন এবং অনেকে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর পরিবারের সবাই নিরাপদে আছেন।

একটি হাসপাতালের ৩১ বছর বয়সী এক কর্মী জানান, হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রোগীরাও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে হাসপাতালের কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে।

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের সিক্কা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সেখানে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাউমেরে বন্দরের টার্মিনালের অপেক্ষাকক্ষের একটি অংশও ধসে পড়েছে বলে তিনি জানান।

সুনামি সতর্কতা জারি

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (BMKG) সম্ভাব্য সুনামির বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা (BNPB)-এর কর্মকর্তা আবদুল মুহারি ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল এবং দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সমুদ্রতীর থেকে দূরে সরে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার অভ্যন্তরে অথবা ১০ মিটারের বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পরে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

ফ্লোরেসে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ইতিহাস

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ১৯৯২ সালে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর অন্যতম ইন্দোনেশিয়া। দেশটি ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ অত্যন্ত বেশি।

ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প ছিল ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প। সুমাত্রার উপকূলের কাছে ওই ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। এতে পুরো অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতেই মারা যান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

এ ছাড়া ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিক কম্পনে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

সূত্র: এনডিটিভি।

Facebook Comments Box

Posted ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া